রাজশাহীর পুঠিয়ায় একই পরিবারের সকল সদস্যই প্রতিবন্ধি
সরজমিন ঘুরে দেখাগেছে, উপজেলার বেলপুকুর রেলগেট এলাকার প্রতিবন্ধি গোলাম মোসত্মফা (৫৬) যৌবন কালে সে প্রতিবন্ধি হওয়ায় তার পিতা মাতা অপর এক প্রতিবন্ধি রাসেদার সঙ্গে বিয়ে দেন। আর বিয়ের দু’বছরের মাথায় তাদের পরিবারে প্রথম সমত্মান জন্ম নেয় নিহারী (২৯) এর দু’বছরের মাথায় একমাত্র পুত্র রাসেল (২৭), তারপর রুমা (১৬) ও ছোট মেয়ে মুর্শিদা (৮) বছর বয়সে ২০০৪ সালে মার্চ মাসে হঠাৎ নিখোজ হওয়ার পর ৪ দিনের মাথায় চারঘাটে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বড় মেয়ে ৫ম শ্রেণী ও ছেলে ৪র্থ শ্রেণী পযমর্ত্ম লেখাপড়া করেছে। আর বাকি সমত্মানরা সংসারের অভাব অন্টনও প্রতিবন্ধি হওয়ায় লেখাপড়ার আলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মোসত্মফা অনেক কষ্ট করে বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য সহযোগিতা চেয়ে ২০০৮ সালে ১৩ হাজার টাকা খরচ করে সরদা পুলিশ লাইনের পার্শ্বে ইসরাইল এর পুত্র আলমগীরের সাথে বড় মেয়ে নিহারীর বিবাহ দেয়। কথা ছিল বিয়ের পর মেয়ের জামাইকে দোকান করে দিতে হবে কিন্তু মোসত্মফার পক্ষে এত বড় স্বাধ্য পুরন করতে না পারায় তার মেয়েকে ফেলে রেখে যায়। আর এর মধ্যে নিহারীর কোলজুড়ে আসে একটি পুত্র সমত্মান রাবিব (৩)। একদিকে মোসত্মফার অভাব অন্টনে সংসার চলে না তার সাথে যোগ হয় বড় মেয়েকে নিয়ে বিড়ম্বনা। সে প্রতিবন্ধি হওয়ায় তাকে দিয়ে কোন প্রকার কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় এলাকায় তার কোন কদর নেই। কেউ নেয়না তার পরিবারের খোজ খবর। যার ফলে সে অসহায় ও নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন গ্রাম, হাটবাজারে পুত্র রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে সারাদিন ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পাওয়া যায় সন্ধায় বাড়ি ফিরে সবাই মিলে তা ভাগাভাগি করে খায়। তার ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য নেই কোন হুইল চেয়ার হামাগুড়ি দিয়ে প্রতিদিন তাকে পাড়ি দিতে হয় অনেক পথ। তার পরিবারে আসেনা কোন ঈদের খুশি নেই নতুন জামা কাপুড় পাওয়ার আনান্দ। সরকারী সুবিধা বলতে একটি মাত্র ভিজিএফ কার্ড। যা তার বর্তমানে ৬ সদস্যের পরিবারে তেমন কোন প্রভাব পড়েনা।
স্থানীয়রা জানায় একশ্রেণীর দালাল এই প্রতিবন্ধি পরিবারকে দেখিয়ে একের পর এক ফায়দা লুটছে। মোসত্মফার একটি মাত্র চাওয়া কোন হ্নদয় বান ব্যাক্তি যদি তাকে সাহয্য করে একটি দোকান করার মতো ব্যাবস্থা করে তাহলে সে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে পরিবার পরিজনকে নিয়ে সুখে সামিত্মতে দিন যাপন করতে পারবে বলে জানায়।
Category: রাজশাহীর খবর

0 মন্তব্য(গুলি)